বিদেশে লেখাপড়া, চাকরি ও অভিবাসনের জন্য সার্টিফিকেট সত্যায়ন করা যাবে অনলাইনে। বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট Apostille পদ্ধতিতে সত্যায়নের আবেদন অনলাইন পোর্টাল মাইগভ (www.mygov.bd)-র মাধ্যমে।
বিদেশে যেতে সার্টিফিকেট সত্যায়ন এখন মিলবে অনলাইনেই
বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন কিংবা শিক্ষাগ্রহণের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বিভিন্ন সনদপত্রের সত্যায়নকে সহজ করতে শুরু হয়েছে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতি। ভোগান্তি কাটাতে চালু হলো অনলাইনে সার্টিফিকেট সত্যায়ন। এখন সনদ বা একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর সত্যায়নের জন্য আর যেতে হবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে সরকারের এই অনলাইন পরিষেবা। এপোস্টিল-মাইগভ সাইটে ঢুকে ফি দিয়ে আবেদন করা যাবে। সনদের তথ্য যাচাই করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, সত্যায়ন করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যারা বিদেশে চাকরি বা অভিবাসনে ইচ্ছুক তারাও এ সেবা নিতে পারবেন। গত বছর এপোস্টিল কনভেনশনে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। এর ফলে ১২৭টি দেশে বাংলাদেশিদের সার্টিফিকেট সত্যায়ন প্রয়োজন হবে না।
বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট সত্যায়িত করার অনলাইন পদ্ধতি—
প্রোফাইল যাচাই করণ—
অ্যাকাউন্ট খোলার পর সাইটটিতে ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি হবে একটি স্বতন্ত্র প্রোফাইল। এটি তাৎক্ষণিকভাবে এনআইডি অথবা জন্ম নিবন্ধন নাম্বার কিংবা জন্ম সাল দিয়ে যাচাই করে নিতে হবে। একটি এনআইডি দিয়ে শুধু একটি মাইগভ অ্যাকাউন্ট যাচাই করা যাবে।
সুনির্দিষ্ট আবেদন অনুসন্ধান—
মাইগভ হোমপেজে প্রদর্শিত সেবাগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ‘বিদেশগামী নাগরিকদের সার্টিফিকেট সত্যায়ন’। এখানে ক্লিক করলে নতুন পেজে বিদেশ গমনের জন্য প্রাসঙ্গিক সমস্ত নথিপত্র সত্যায়নের পৃথক পৃথক আবেদন অপশন আসবে। এগুলোর মধ্য থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্দিষ্ট বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যে সত্যায়নগুলো চাওয়া হয়েছে, সেগুলো খুঁজে নিতে পারবেন। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট নথির জন্য হোমপেজের সার্চ বক্সে তা লিখেও সার্চ করা যায়। এতে প্রদর্শিত অপশনগুলোর মধ্যে সবার ওপরে থাকবে কাঙ্ক্ষিত আবেদনটি। এই অনুসন্ধানটি এমনকি ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমেও সম্পন্ন করা যায়।
আবেদন পদ্ধতি—
প্রতিটি আবেদন অপশনের ভেতরে সংশ্লিষ্ট আবেদনসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য একনজরে লিপিবদ্ধ করা আছে। যেমন কী কী কাগজপত্র লাগবে, আপলোডের নিয়ম, আবেদন ফি কত, অনলাইন আবেদন ফরম কীভাবে পূরণ করতে হবে এবং প্রক্রিয়াকরণে কেমন সময় লাগবে ইত্যাদি।
নথিপত্রের ধরন অনুযায়ী স্বভাবতই এ তথ্যাদি ভিন্ন ভিন্ন হবে। বিশেষ করে প্রক্রিয়াকরণের সময় সব নথির ক্ষেত্রে এক নয়। এ ছাড়া কোনো কোনো সেবা বিনা মূল্যেই পাওয়া যাবে, আবার কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে রয়েছে নির্দিষ্ট আবেদন ফি। এই ফি পরিশোধের জন্য রয়েছে অনলাইন ব্যাংকিং, কার্ড এবং মোবাইল পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম।
আবেদন ফরম পূরণের সময় লাল তারকা চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক। বাকি ঘরগুলো খালি রেখেও ফর্ম পূরণ সম্পন্ন করা যাবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্লাস (+) বাটনে ক্লিক করে একাধিক পৃষ্ঠা বা ফাইল সংযোজনের অপশন পাওয়া যাবে।
পুরো আবেদন একবারে পূরণ করে সাবমিট করতে হবে—এমন কোনো বাধ্য-বাধকতা নেই। আংশিক পূরণ করে তা পরে পূরণ করার জন্য ড্রাফট করে রাখা যেতে পারে। পরে মোবাইল নম্বর বা ই–মেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ‘সেবা ব্যবস্থাপনা’ অপশন থেকে ড্রাফট আবেদন পুনরায় শুরু করা যাবে।
প্রাসঙ্গিক কাগজগুলো আপলোড—
আবেদনের আপডেট ট্র্যাকিং—
চূড়ান্তভাবে আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রতিটি আবেদনের জন্য একটি স্বতন্ত্র ট্রাকিং নম্বর দেন। এই নাম্বার ব্যবহার করে পরবর্তীতে ‘সেবা ব্যবস্থাপনা’ অপশন থেকে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে জানা যাবে। এই অগ্রগতিটি প্রত্যেক সেবাগ্রহীতা তাঁর ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ড থেকে দেখতে পারবেন।
সত্যায়িত নথি প্রাপ্তি—
নির্দিষ্ট কার্যদিবস শেষে সফলভাবে সত্যায়িত নথিটি ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শিত হবে। আর এর সঙ্গে সঙ্গেই সেবাগ্রহীতা তা ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট সত্যায়িত করার এই অনলাইন পরিষেবা নথি সত্যায়নব্যবস্থাকে করেছে হয়রানিমুক্ত এবং দ্রুততর। মাইগভ সাইটে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য স্বতন্ত্র প্রোফাইলের কারণে আবেদনপত্রসহ যাবতীয় কাগপত্র সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য রয়েছে ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা। যাবতীয় প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্যে প্রথমেই প্রোফাইল যাচাই করে নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে একটি এনআইডি দিয়ে কেবল একটি অ্যাকাউন্ট যাচাই করা সম্ভব।
বিস্তারিত: https://cust.unibridge.uk/certificate-verification
টিউটোরিয়াল:
myGov – মাইগভ | এক ঠিকানায় সরকারি সেবা
